এই সব কারণে দূষিত হয় রক্ত, রক্ত পরিষ্কার করুন এই উপায় মেনে

আমাদের শরীরের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি যদি ঠিক না থাকে, তাহলে শরীর ঠিক থাকবে কী করে বলুন! তাই তো রক্তকে সব সময় পরিষ্কার রাখাটা আমাদের প্রথম কর্তব্য। রক্ত যে আর শুদ্ধ নেই, তা অনেক ভাবে বোঝা সম্ভব, যেমন আপনার কি খুব ব্রণ হয়? এও কিন্তু রক্ত দূষিত হয়ে যাওয়ার একটা লক্ষণ। এছাড়া সোরিয়াসিস নামে এক ধরনের ত্বকের রোগও কিন্তু রক্ত ময়লা হয়ে গলেই হয়ে থাকে। এখানেই শেষ নয়, রক্ত যেহেতু শরীরের প্রতিটি কোণায়, প্রতিটি অংশে পৌঁছে যায়, তাই রক্ত যদি ঠিক না তাকে তাহলে কিন্তু একে একে শরীরের বাকি অংশেও এর প্রভাব পরতে শুরু করে। তাই সাবধান! এ বার রক্ত দূষণের প্রধান কারণগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

Image Source – https://zeenews.india.com

অস্বাস্থ্যকর আহার-  অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফলে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ফ্যাট এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থ রক্তস্রোতের সঙ্গে মিশে গিয়ে ধীরে ধীরে ধমনীর গায়ে জমা হতে থাকে। আবার রক্তস্রোতে উপস্থিত অতিরিক্ত ফ্যাটে রক্ত কণিকা ও প্লেটলেটগুলি জমাট বেঁধে যায়। ফলে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে তার অক্সিজেন পরিবহনের ক্ষমতা কমে যায়।

ধূমপান-  ধূমপানের ফলে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস রক্তে মিশে রক্তের অক্সিজেনের ভারসাম্য নষ্ট করে। তাছাড়া, ধূমপানে নষ্ট হয় ভিটামিন সি, রক্ত চলাচলে যার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এ ছাড়া নিকোটিনের প্রভাবে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধমনীগুলি সংকুচিত হয়ে পড়ে।

Image Source – https://www.priyo.com

মদ্যপান- মদ্যপানের ফলেও রক্তকণিকাগুলো জমাট বেঁধে যায়, রক্তে ফ্যাটের মাত্রা বেড়ে যায়, নষ্ট হয় বহু প্রয়োজনীয় পরিপোষক। সেই সঙ্গে কয়েকটি এনজাইম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার ফলে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়।

তবে এমন কিছু ঘরোয়া চিকিত্সা রয়েছে, যা মেনে চললে রক্ত ময়লা হয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগই পায় না। আর একবার রক্ত বিশুদ্ধ হয়ে গেলে দেখবেন ত্বকের রোগ তো দূরে থাকবেই, সেই সঙ্গে শরীরও একেবারে চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

Image Source – https://food.ndtv.com

লেবু- শরীরে ক্ষতিকারক টক্সিন জমে থাকার ফলে রক্ত দূষিত হয়ে যায়। আর এই টক্সিন দূর করতে লেবু দারুণ সাহায্য করে। শরীরে ক্ষতিকর টক্সিনের মাত্রা যত বৃদ্ধি পাবে, তত রক্ত ময়লা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। লেবু নানাভাবে শরীর থেকে এইসব বিষগুলিকে বের করে দেয়। ফলে রক্ত খারাপ হয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগই পায় না। শরীরে টক্সিনের মাত্রা যত কমবে, তত রক্ত বিশুদ্ধ থাকবে।

Image Source – https://www.onegoodthingbyjillee.com

আদা-  এতে কার্কিউমিন নামে এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রচুর মাত্রায় রয়েছে, যা রক্তকে শুদ্ধ করার পাশাপাশি একাধিক রোগের প্রকোপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

গাজর-  রক্ত ময়লা হয়ে যাওয়ার কারণে সরিয়াসিস সহ যেসব ত্বকের রোগ হয়, সেগুলির প্রকোপ কমাতে গাজরের কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। গাজরে রয়েছে বিপুল পরিমাণে ভিটামিন- এ, বি, সি এবং কে এবং পটাশিয়াম। এই সবকটি উপাদানই শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে দারুন কাজে আসে। তাই যখনই বুঝবেন রক্ত ময়লা হতে শুরু করেছে, গাজর খাওয়া শুরু করবেন, দেখবেন দারুন ফল পাবেন।

Image Source – https://www.splendidtable.org

বিট- এটি প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। যা রক্তাল্পতা সমস্যা ঠিক করার পাশাপাশি, রক্তকে পরিষ্কার রাখতেও বেশ সাহায্য করে। শরীরকে রোগ জীবাণু থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

ব্রকলি- এতে প্রচুর মাত্রায় ডিটক্স এজেন্ট বা ময়লা বের করে দেওয়ার উপাদান রয়েছে। তাই তো প্রতিদিন এই সবজিটি খেলে রক্ত ময়লা হয়ে যাওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না। প্রসঙ্গত, রক্তের কোণায় কোণায় লুকিয়ে থাকা ময়লাকে টেনে বার করতে ব্রকলি দারুন কার্যকরী।

Image Source – https://food.ndtv.com

রসুন- রক্ত পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন এক কোয়া রসুন খান। কারণ রসুনে থাকে অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান যা রক্ত থেকে ক্ষতিকর ভাইরাস দূর করতে সাহায্য করে। রক্তকে পরিষ্কার রাখে।

হলুদ- হলুদকে বলা হয় লিভারের ওষুধ। কিন্তু শুধু লিভার নয়, রক্তকে পরিষ্কার রাখতেও এর ভূমিকা অতুলনীয়। হলুদ অ্যান্টিসেপটিক হিসাবে কাজ করে। এর কারকিউমিন নামক উপাদান লিভারকে সুস্থ রাখার একটি অন্যতম উপাদান। রক্তকেও পরিষ্কার রাখে।

করলা-  বাড়ির বড়রা নিশ্চয়ই বলে বেশি করে তেঁতো খেলে রক্ত পরিষ্কার হয়। এটা কিন্তু সত্যি রক্তকে পরিষ্কার রাখার জন্য করলার থেকে উপকারী উপাদান আর কিছু হয় না। করলায় আছে ডিটক্সিফাইং উপাদান। যা রক্তকে ডিটক্সিফাই করে। রক্ত থেকে টক্সিন ও অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদান বার করে। এর জন্য সপ্তাহে তিনদিন করলা সেদ্ধ খান। শরীর সুস্থ থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: