এই দেশে ২৫-এর মধ্যে বিয়ে না করলেই চরম শাস্তি

বয়স ২৫ পেরিয়ে গেছে। অথচ এখনও অবিবাহিত সে ছেলে হোক বা মেয়ে। তাহলে তাদের কপালে অশেষ দুর্গতি ঘনিয়ে আসে। দেওয়া হয় শাস্তি। ডেনমার্কে অদ্ভুত এক প্রথা চালু রয়েছে। অবিবাহিত ব্যক্তির ২৫ তম জন্মদিন পালন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে কেক কেটে বার্থ ডে সেলিব্রেট হওয়ার বদলে চলে অত্যাচার। ব্যক্তির সারা গায়ে দারুচিনির গুঁড়ো ছড়িয়ে দেয়া হয়। অনেকে জল ছিটিয়ে দেন। যাতে দারুচিনির গুঁড়ো গায়ে লেপ্টে যায়। এটা করতে তার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ, তাকে যেন মনে করিয়ে দেওয়া, এবার বিয়ের বয়স হয়েছে। ফলে কারও সঙ্গে ঘর বাঁধো।

Image Source – https://padmanews24.com

কেন এমন অদ্ভদ রীতি প্রচলিত আছে এই দেশে?

কথিত আছে,সামাজিকভাবেই অবিবাহিতদের গায়ে এমন দারুচিনি মাখানোর রীতি এখানে চালু রয়েছে বহু বছর ধরে।  মশলা বিক্রির জন্য যেসব সেলসম্যানরা ঘুরে বেড়াতেন চারপাশে, তাদের পক্ষে ঘর-সংসার পাতা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতো। ব্যবসার কারণে এক জায়গায় তারা স্থায়ী হতে পারতেন না। ফলে সঠিক সময়ে বিয়েও করতে পারতেন না। এমন অবিবাহিত সেলসম্যানদের ‘পেপার ডুডস’ বলা হতো। অবিবাহিতাদের ‘পেপার মেইডেন’ নামে ডাকা হতো। এদেশের বর্তমান তরুণ প্রজন্ম যাতে এই পথে না হাঁটে তারজন্য তৈরি করা হয়েছে এই অদ্ভদ প্রথার।

Image Source – https://ajkerbarta.com

২৫ বছর পেরিয়ে গিয়ে ৩০-এও যদি কেউ বিয়ে না করেন তাহলে তারজন্য আরও বড় কিছু অপেক্ষা করে থাকে। তাঁদের গায়ে শুধু দারুচিনি নয়, সঙ্গে লঙ্কার গুঁড়োও ছেটানো হয়। কখনও কখনও সঙ্গে ডিমও মেশানো হয়। যাতে ডিমের সঙ্গে মাখামাখি হয়ে সারা দেহে লঙ্কার গুঁড়ো আটকে থাকে।

Image Source – https://www.dw.com

তবে আবার এটা ভাববেন না যে, আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধবদের এমন অত্যাচার  থেকে বাঁচতে সবাই ২৫ বছরেই বিয়ে করে নেন। এটা করা হয় নিছকই মজা করার জন্য। এই দেশে আসলে পুরুষদের বিয়ের বয়স গড়ে সাড়ে ৩৪। অন্যদিকে নারীরা গড়ে ৩২ বছর বয়সে বিয়ে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: